প্রযুক্তির নিজস্ব একটি ক্ষমতা আছে, যা মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে বর্তমানকে। প্রযুক্তি সব সময় আমাদের জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে। স্থবিরতাকে বিদায় জানিয়ে এনে দিয়েছে গতি, যেখানেই সমস্যা সেখানেই সমাধান হিসেবে নতুন কিছুর আবির্ভাব হয়েছে। প্রযুক্তির অনেক সুবিধাই আমরা ভোগ করছি, কিন্তু আগামী দশকে কি এমন আবিষ্কার হবে বা হতে যাচ্ছে যা আমাদের জীবন-যাপনের গতি বদলে দিতে পারে। আজকের আয়োজন আগামী দশকের সম্ভাবনাময় কিছু আবিষ্কার নিয়ে, যা বদলে দিতে পারে আগামীর পৃথিবী।

আগামী দশকে সাম্ভাব্য আবিষ্কৃত কিছু প্রযুক্তিঃ  

ল্যাবে তৈরি মাংসঃ 

২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭৭০ কোটি। এর মধ্যে মাত্র ৬০ কোটি লোক নিরামিষ ভোজী। আর এই বাদবাকি সব লোক আমিষ  ভোজী, আর আমরা জানি আমিষের বড় একটি অংশ আসে মাংস থেকে। তাহলে এই লোকদের মাংসের চাহিদা কিভাবে মেটাবে?  যেখান ক্রমাগত প্রাণী হত্যার ফলে জীববৈচিত্র হুমকির মুখে।

এমন এক সময়ে ডাচ বিজ্ঞানী, মার্কাস জোহানেস সর্বপ্রথম ল্যাবে তৈরি মাংসের কথা বলেন। এই পক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে মানুষের খাদ্যভ্যাসে আসতে পারে ব্যপক পরিবর্তন। 

রোবটের  অগ্রযাত্রাঃ

মানুষের বিকল্প হিসেবে অনেক ধরনের কাজই রোবট করছে এ খবর আমরা অনেকই জানি। কিন্তু মাহাকাশ গবেষণার মত কাজে  ভুমিকা রাখতে যাচ্ছে রোবট। ইতোমধ্যে নাসা (NASA) কাজ করছে এই ধরনের রোবট নিয়ে। মানুষ যেখানে অক্সিজেন, খাবার, জিবন-যাপনের সমস্যার মধ্যে পরে সেখানে রোবট মানুষের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারবে আরো নিখুঁত ভাবে। 

চালকবিহীন ইলেকট্রনিক্স কারঃ 

চালকবিহীন গাড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত করবে। টেসলা(TESLA) ইতোমধ্যে চালক বিহীন গাড়ির কার্যক্রম শুরু করেছে। অনেকক্ষেত্রে তারা সফলতাও পেয়েছে খানিকটা। তবে ভবিষ্যতে গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগবে না কোন মানুষের হাত। কমে যাবে সড়ক দূর্ঘটনার পরিমাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাড়বে গতি। 

ফ্লাইং কার বা উরন্ত গাড়িঃ 

যানজট সমস্যা কিন্তু পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই কম বেশি আছে। দ্রুত এবং নিরাপদ যাত্রার জন্য এখন অনেকেই আগে থেকে ভরসা করছেন এই ফ্লাইং কারের উপর। কটি ডাচ কোম্পানি তাদের প্রথম উড়ন্ত গাড়ি বাজারে ছেড়েছে। জেনেভা মোটর শোতে প্যাল-ভি নামের এই কোম্পনি তাদের তৈরি এই তিন চাকার গাড়ি-কাম-হেলিকপ্টার প্রদর্শন করেছে। আমেরিকান কোম্পানি টেরাফুগিয়া গাড়ির সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন পাখা, যা গাড়িটিকে উড়তে এবং চলতে সাহায্য করবে।

অয়্যারেবল স্ক্রিনঃ

হাতের কব্জিতে  ভেসে উঠবে মোবাইলের স্ক্রিন। আলতো আঙ্গুলের ছোয়ায় কাজ করা যাবে দ্রুত গতিতে। যে কোন তথ্য ডাউনলোড হবে চোখের পলকে। ফ্রান্সের একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান এক বিজ্ঞানমেলায় এমনই এক নয়া প্রযুক্তির ব্রেসলেট-স্মার্টফোন তৈরি করেছে। আরো বেশি করে কাষ্টমার ফ্রেন্ডলি করার জন্য গেবেষণা চলছে। হয়তো বেশি দিন নেই  আমাদের হাতের কব্জির মধ্যে উচ্চগতি সম্পন্য মোবাইল ফোনের স্ক্রিন দেখতে পারব।

সোলার প্যানেল টেকনোলজিঃ

সোলার প্যানেল টেকনোলজি এখন শুধু মাত্র ঘরের ছাঁদে বাতি জ্বালানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে না। নানাবিধ কাজে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে এই সোলার প্যানেল। যেমন টেসলা(TESLA) তার নতুন মডেলের গাড়ির ছাঁদে সোলার প্যানেল বসিয়ে ব্যাটারি চার্যের ব্যবস্থা করছে। এরকম  অনেক কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক সোলার প্যানেল টেকনোলোজি।

অঙ্গভঙ্গি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটারঃ 

কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির (সিএসইউ) গবেষকেরা ইশারায় কম্পিউটার পরিচালনার বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। হাসি, ইশারা, অঙ্গভঙ্গি দিয়ে কম্পিউটারে ইনপুট দেয়া যাবে। সিরি ও করটানার মতো ডিজিটাল সহকারী সেবার কারণে গ্রাহক এখন মুখের কথা দিয়েও কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। আরো এক ধাপ এগিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন গবেষকেরা। এর মাধ্যমে কম্পিউটার প্রযুক্তি আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। 

স্মার্ট টুথব্রাশঃ 

দৈনন্দিন ব্যবহার্য অনেক কিছুই এখন স্মার্ট ভাবে তৈরি হচ্ছে। স্মার্ট বলতে একটি বিষয়ের মাধ্যমে মাল্টিটাস্কিং করা। যেমন ট্যুথব্রাশ আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার্য একটি উপকরণ, কিন্তু কেমন হয়, আপনি যখন ব্রাশ করবেন তখন ঐ ব্রাশটি আপনার দাঁতের অবস্থা রেকর্ড করবে এবং তা পৌছে দিবে আপনার ডেন্টিশের কাছে।  কাজের ব্যস্থতা ফেলে আপনাকে যেতে হবে না ডক্টরের কাছে। ডাক্তার ঘরে বসেই পেয়ে যাবে আপনার সাস্থ্যের অবস্থা। 

৫জি মোবাইল নেটওয়ার্কঃ

৫জি নেটওয়ার্কের ফলে পুরো আইটি সেক্টরেই আসবে আমূল পরিবর্তন। বিশ্লেষকেরা বলছেন এর ফলে ব্যবসা বানিজ্যের প্রসারণ, ডাটা আদান-প্রদানে এক অন্য গতি আসবে। 

আর্টফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সঃ 

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ক্ষাতে সব থেকে বেশি হইচই হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবা (AI) নিয়ে। সহজ করে বলতে গেলে কোন মেশিন যখন মানুষের মত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, চিন্তা করতে পারে তখন তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। যেমন ধরুন আপনি যখন ইউটিউবে কোন ভিডিও দেখেন তখন ইউটিউব আপনাকে সেই ধরনের অনেক গুলো ভিডিও সাজেস্ট করে। ভাবুনতো এটি কিভাবে হয়! এই সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। ভাবা হচ্ছে আগামী দশকে ব্যপক উন্নতি সাধন হবে এই কৃত্রিম বুদ্ধমত্তার। যা প্রযুক্তি ক্ষাতে ব্যপক উন্নতি সাধন করবে।  

হেলথ চিপসঃ

একটি ক্ষুদ্রাকার ডিভাইস লাগানো থাকবে চামড়ার নিচে। যার মাধ্যমে শরীরের সকল ধরনের ভালো-মন্দ রিপোর্ট দেখা যাবে। শরীরে কখন কোন ধরনের সমস্যা সেইটা ঐ ডিভাইস বহনকারি আগে থেকেই জানতে পারবে।