তীব্র গরমে শরীরটাকে একটু শীতল করার জন্য এসির (এয়ার কন্ডিশন) তুলনা হয় না। এই সময়ে গরমের তীব্রতা যেমন বেড়েছে, তেমনি এসির ব্যবহারও বেড়ে গেছে অনেকগুনে। শুধু যে গরমের সমাধান হিসেবেই এসি ব্যবহৃত হয় এমনটাও কিন্তু নয়। ঘরের বাতাস বিশুদ্ধকরণেও এসির ব্যবহার বহুল প্রচলিত। নানাবিধ ব্যবহারের কারণে এসির চাহিদা বারছে ক্রমবর্ধ্মানহারে। 

প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবহার যার বেশি, তা নিয়ে সমস্যা কিছুটা থাকা স্বাভাবিক।  বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিল যেন বড় চিন্তার বিষয়। এছারাও দৈনন্দিন সময়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। তবে এসি ব্যবহারে কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনাকে এই সকল ঝামেলায় পড়তে হবে না। তবে আসুন, কিভাবে ঝামেলা মুক্ত থাকা যায় এ নিয়ে আলোচনা করা যাক। 

এসি ব্যবহারের কিছু নিয়মাবলিঃ

১। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ

৭৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখবেন না এসির তাপমাত্রা। এটা আমাদের দেশের বিদ্যুৎ বিভাগের বেঁধে দেওয়া তাপমাত্রা।  খুব বেশি কমাতে গেলে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হবে, এমনকি এর কারণে লোড শেডিং হওয়াও অসম্ভব নয়। ঘুমাতে যাবার সময়ে তাপমাত্রা আরেকটু বাড়িয়ে রাখতে পারেন।

২। দীর্ঘক্ষন এসি চালানো থেকে বিরত থাকুনঃ 

এসি অন থাকা অবস্থায় ঘরের দরজা বা জানালা যেন খোলা না থাকে এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। দরজা, জানালা খোলা থাকলে ঘর ঠান্ডা হতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে। আপনি যখন এসি অন করবেন তখন থেকে ২-৩ ঘন্টা পরে আপনার ঘর ঠান্ডা হয়ে যাবে, তখন আপনি আপনার ঘরের এসি অফ করে ফ্যান ছেরে দিতে পারেন, তাহলে আপনার ঘরেরে তাপমাত্রা অনেকক্ষণ ঠান্ডা থাকবে। অন্য দিকে বিদ্যুৎ বিলও অনেকটা সেভ হবে। 

৩। এসি পরিষ্কার রাখুনঃ

নিয়মিত এসি পরিষ্কার রাখুন। নিজে পরিষ্কার করুন অথবা দক্ষ শ্রমিক ডেকেও পরিষ্কার করাতে পারেন। এসি যে দোকান থেকে কিনেছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারাই উপায় বাৎলে দেবে। নিয়মিত পরিষ্কার করলে এসি থেকে বেশি  হাওয়া পাবেন। 

৪। ফিল্টার পরিষ্কার করুনঃ

ফিল্টার নিয়মিত সময় পরপর বদলানো উচিৎ। এসির এই অংশটি যতটা পরিষ্কার থাকবে, ততটাই সচল থাকবে এসি।নোংরা এবং ময়লাযুক্ত ফিল্টার এসিকে নিয়মিত কাজে বাঁধা দেয়, ফলে অনেকসময় ঘর ঠান্ডা করার বদলে ঘরকে গরম করে তুলতে থাকে আপনার প্রিয় এয়ার কন্ডিশনারটি।এবং এই কারণে  অনেক সময় বেড়ে যেতে পারে আপনার খরচ। 

৬। ইউনিট ফ্যান পরিষ্কার রাখুনঃ

আপনার এসির ফ্যানের কাজ ক্রমাগত গরম বাতাস বের করে দেওয়া। এই কাজটি করতে করতে অনেক ধুলোবালি ও ময়লাকেও আকৃষ্ট করে এই ফ্যান।

একারণে ফ্যান থেকে আসতে পারে আওয়াজ, ফলে এসির স্বাভাবিক কাজে আসবে বাঁধা। তাই এই ফ্যানটির ব্লেডকে খুব সাবধানতার সাথে পাতলা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।

৭। লিক ঠিক করুনঃ

যখনি দেখবেন এসি ঠিকমত কাজ করছে না, খেয়াল করুন আপনার এসিতে কোনো লিক রয়েছে কিনা। এই লিকের কারণে অনেকসময় এসি কার্যকরী থাকেনা, ফলে ঘরও ঠান্ডা হয়না।

তাই, এসিতে কোনো লিক খুঁজে পেলে তা ফয়েল টেপ দিয়ে শক্তভাবে ঢেকে দিন।

৮। ইলেকট্রিক ভোল্টেজ চেক করুনঃ

আপনার ঘরের ইলেক্ট্রিসিটি যদি কম ভোল্টেজে চলে তাহলে আপনার এসি কার্যকরী হবেনা। বরং যন্ত্রটি আরও ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

তাই, ঘরে এসি বসানোর আগে আপনার ইলেক্ট্রিকাল ভোল্টেজ সম্বন্ধে জেনে নিন।

৯। ড্রেনেজ পাইপ পরিষ্কার রাখুনঃ

এসির কাজ ঘরের নরমাল অথবা গরম বাতাসকে ঠান্ডা বাতাসে রূপান্তরিত করা। প্রথমে বাতাসকে তরলে রূপান্তরিত করে সেই পানিকে ড্রেনেজ পাইপের মাধ্যমে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।

এই কাজের সময় বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা জমে এই পাইপে, ফলে নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ব্যাহত হবে এসির স্বাভাবিক কাজ।

তাই, নিয়মিত ড্রেনেজ পাইপ পরিষ্কার করা উচিৎ।

১০ভেতরে জমা বরফ পরিষ্কার করুনঃ

আপনার এসি কাজ করবেনা যদি তার ভেতরে বরফ জমে থাকে। বরফ জমলে এসি বন্ধ করে শুধু ফ্যানটি ছেড়ে রাখুন।

এতে বরফ জমাট ভাঙতে থাকবে এবং একসময় ঝামেলার সমাধান হয়ে যাবে।

১১। নির্দিষ্ট সময় পর পর  সার্ভিসিংঃ

বছরে অন্তত একবার হলেও অভিজ্ঞ কোন টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে আপনার এসিকে সার্ভিসিং করাবেন। তাহলে আপনি আপনার এসি থেকে ভালো সার্ভিস পাবেন বলে আশা করা যায়, এবং কোন ধরনের যান্ত্রিক ত্রূটি না থাকার কারণে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল গুনতে হবে না।

বি.দ্রঃ এসি থেকে নির্গত পানি অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিষ্কার করতে হবে। কারণ,  এই ধরনের পানিতে ডেঙ্গু মশা বংশ বিস্তার করে থাকে।

 

আরও পড়তে পারেনঃ 

আপনার গাড়ির ফুয়েল খরচ কমাবেন যেভাবে

গাড়ি পার্কিং এর যে ৯ টি বিষয় আপনার জানা দরকার