অন্যান্য সকাল থেকে শীতের সকাল একটু পৃথক, একটু বৈচিত্র্যময়। শীতের সকাল আসে কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে। ঠান্ডা শীতল হাওয়ার সাথে ঘন কুয়াশার চাদর এক অন্যরকম অনুভূতি এনে দেয় হৃদয়-মনে। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে পূর্বদিগন্তে সোনালী সূর্য যখন মিষ্টি রোঁদ বিলাতে থাকে, তখন হঠাৎ করেই কোথায় যেন হারিয়ে যায় সকল অলসতা। 

এমন একটি সুন্দর সকালে এক নতুন উদ্যোম নিয়ে গাড়ি করে কর্মস্থলের দিকে যারা রওনা হন , তাঁরা কতটা সচেতনতার সাথে গাড়ি চালাচ্ছেন? কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখছেন নিজের সুরক্ষার জন্য? কোন প্রয়োজনীয় দিকগুলো লক্ষ্য করা দরকার চলুন যেনে নেই…

ঘন কুয়াশায় গাড়ি চালাতে হলে যে সকল বিষয় আপনাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবেঃ 

লাইন মেনে রাস্তায় চলতে হবেঃ 

শীতের সকালে ঘন কুয়াশায় রাস্তা প্রায় দেখাই যায় না। খুব বেশি কুয়াশা হলে সামনের গাড়িটা দেখতেও সমস্যা হয়, এই অবস্থায় আপনার উচিৎ সঠিক লেন মেনে রাস্তায় গাড়ি চালানো। আপনি যদি অনবরত লেন পরিবর্তন করতে থাকেন তাহলে পেছনের বা সামনের জন বিভ্রান্তির মধ্যে পরে যাবে এবং যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা থাকে। 

জরুরি বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হবেঃ

কুয়াশায় ইমারজেন্সি ও ফগ বাতি জ্বালিয়ে গাড়ি চালান। এতে একই রাস্তায় থাকা অন্যান্য গাড়িচালকেরা আপনার গাড়ির অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন। এতে তাঁরাও সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবেন।

মাঝে মাঝে বিরতি দিতে হবেঃ 

শীতে লং ড্রাইভ মন্দ হয়  না। কিন্তু রাখতে হবে বাড়তি সতর্কতা। রাস্তার পরিমাণ যদি অনেক বেশি হয় সে ক্ষেত্রে আবাহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ছোট একটা বিরতি নিয়ে নিতে পারেন। এর ফলে আপনার ক্লান্তি ভাবটাও কেটে যাবে আবার নতুন জায়গাটাকে উপভোগ করতে পারবেন। 

সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বঃ

কুয়াশায় গাড়ি চালানোর সময় গাড়ির গতি কম রাখতে হবে। আর সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যেন সামনের গাড়ি হঠাৎ ব্রেক কষলে গাড়ি থামানোর পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। বলা হয় রাস্তা যদি ভেজা থাকে অন্তত চার সেকেন্ডের দুরুত্ব বজায় রেখে চলা উচিৎ। 

চালকের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণঃ

আপনার গাড়িটি যদি ড্রাইভারের মাধ্যমে চালান তাহলে তাকে কুয়াশাচ্ছন্য রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য তাকে কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিন। প্রয়োজনে তার জন্য একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন। 

চালকের সুস্থতাঃ

নিরাপদ যাত্রার জন্য অবশ্যই চালকের সুস্থ্যতা প্রয়োজন। দীর্ঘ রাস্তায় চালক সুস্থ্য না থাকলে যে কোন সময় দূর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। 

আবহাওয়ার খবর রাখুনঃ 

রাস্তায় বের হওয়ার পূর্বে  আবাহাওয়ার অবস্থা জেনে নিন। আবাহাওয়া যদি অনুকূল না থাকে তাহলে অবশ্যই যাত্রা শুরু করা ঠিক না। আর যদি এমন হয় যে মাঝ রাস্তায় যাওয়ার পর আবাহাওয়া খারাপ হয়ে গেছে তাহলে রাস্তায় গাড়ি না চালিয়ে নিরাপদ স্থানে পার্কিং করে রাখুন। আবাহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ জায়গায় অবস্থান করুন। 

স্পিড লিমিট সেট করুনঃ

সবসময়ই গাড়ির স্পিড লিমিট নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। দুর্ঘটনা ঘটার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত গতিতে বেপরোয়া ড্রাইভিং করা! খারাপ আবহাওয়ায় সময় তো এই ক্ষেত্রে আরও বেশি সাবধানতা অবলম্বন করে চলা উচিত। এক্ষেত্রে একটি সহজ সমাধান গ্রহণ করতে পারেন, আর তা হলো আপনার গাড়ির একটি নির্দিষ্ট স্পিড লিমিট সেট করে নিতে পারেন।

সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। ঘন কুয়াশাযুক্ত রাস্তায় প্রথমত গাড়ির গতি কম রেখে সকল নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে আপনাকে ঠান্ডা মাথায় গাড়ি চালাতে হবে। তাড়াহুড়া করে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে নিজের জীবন ঝুকির মুখে ফেলে দেয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়।