একটি তিক্ত ছোট গল্পঃ

ঢাকার খুব নামি একটা ইংলিশ স্কুলে পড়ে তাসফিক । ব্যাংকার বাবা মায়ের আদরের তাসফিক খুব ছোট বেলা থেকেই চটপটে এবং মেধাবী। কিন্তু ছেলেটার ইদানিং কি জানি হয়েছে। বেশ ভালোই এক নেতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করে বাবা একটু খোঁজ নিয়ে যা দেখলেন তার জন্য কোনও মানসিক প্রস্তুতি তাঁর ছিল না। তাসফিক স্কুলে একেবারেই অনিয়মিত। সে এক কিশোর গ্যাঙের সাথে জড়িয়ে গেছে যাদের কাজই ইভ টিজিং, ছিনতাই, নেশা করা।

কেন এমন হল?

সময় অনেক পাল্টে গেছে, পাল্টে যাচ্ছে। বাস্তবতা হল আপনার সময়কার স্কুল জীবন আর আপনার বাচ্চার স্কুল জীবনটা এক নয়। সেই বাস্তবতাই বুঝতে হবে। জানি আপনি অনেক ব্যাস্ত। সেই হাজারো ব্যাস্ততার মাঝেই আপনাকে সময় বের করে নিতে হবে আপনার আদরের বাচ্চার খোঁজ খবর নেবার জন্য- সে স্কুলে যাচ্ছে কিনা, কখন স্কুল থেকে বের হচ্ছে, স্কুল ফাঁকি দিলে সে কাদের সাথে মিশছে ইত্যাদি।

এখন প্রশ্ন হল কিভাবে? চাকরি/ ব্যাবসা বাদ দিয়ে আপনি কি ছেলের স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন? না, সেটা সম্ভবও না। প্রযুক্তি থাকতে আপনি কেন এত প্যারা নিচ্ছেন। আপনার আদরের বাচ্চা কখন স্কুলে প্রবেশ করছে, কখন বের হচ্ছে, কোন ক্লাস কত সময় ধরে করছে, তাকে বহনকারী স্কুলের বাসটি এই মুহূর্তে কোথায় আছে – এই সকল তথ্য আমরা পৌঁছে দিব আপনার মোবাইলে।

Old system brings old result: আমাদের শিক্ষা পদ্ধতিতে চলমান গতানুগতিক attendance system দিয়ে আপনি কখনোই উপরের সুযোগ সুবিধা পাবেন না। চলমান এই পদ্ধতি কেবল বাচ্চাদের স্কুলে হাজিরার হিসাব রাখে। গোঁদের উপরে বিষ ফোড়ার মত সেই তথ্যটুকুও আপনি জানতে পারবেন নাঃ আপনার বাচ্চাটি কি ঘর থেকে বের হয়ে স্কুলে গেল কিনা।

360-degree solution :

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বহুল ব্যবহৃত এই পদ্ধতি মান্ধাতা আমলের নিয়ম কানুনের ধার ধারেনা। ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে এখন আর স্কুলে প্রবেশ করতে হবে না বরং RFID reader শিক্ষার্থীর ব্যাগের মধ্যে থাকা আইডি কার্ডও read করতে পারে । সব চেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে কাজকে অতীব সহজ করা এই পদ্ধতি তথ্য দিয়ে আপনাকে কেবল চিন্তা মুক্তই রাখেনা বরং স্কুল ব্যাবস্থাপনার কাজকে অনেক অনেক সহজ করে।

তাসফিক কি শুধু একাই দায়ী?

তাসফিকের বাবা-মা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি একটু সচেতন হত তবে আজকের তাসফিককে এই অবস্থায় দেখতে হত না। ভাবুন তো তাসফিক যখন প্রথম দিন স্কুল ফাঁকি দিল ঐ দিনই যদি ওর বাবা জানতে পারত!! ভাবুন তো তাসফিকের পুরো মাসের আমলনামা খুব সহজেই সফটওয়্যার তৈরি করে দিচ্ছে। ভাই থামেন, এত ভাবার কিছুই নাই। এটা স্বপ্ন নাঃ এক দৃশ্য বাস্তবতা, কাজটি করে দিবে পাই ল্যাবস বাংলাদেশ লিঃ। বরং স্বপ্ন দেখুন এমন এক সমাজের যেখানে একটাও তাসফিক তৈরি হয় না যাকে দেখে চোখে জল আসে।