নগর পরিকল্পনা এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে দেশের নির্দিষ্ট কোন ভূখণ্ডকে জনবান্ধব করে গড়ে তুলার জন্য কারিগরি পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়। একটি নগরের ভূমি থেকে শুরু করে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ কিভাবে, কোথায় ব্যবহার হলে তা জনগনের জন্য এবং নগরের জন্য মঙ্গল তা এই পরিকল্পনারই অংশ। এক কথায় নগর পরিকল্পনাকে আমরা নগরীর সকল প্রাকৃতিক সম্পদের একটি বন্টন পক্রিয়া বলতে পারি। নগরের সম্পদ (যেমন পানি, গ্যাস, রাস্তাঘাট) কীভাবে মানুষের কাছে পৌছে দেয়া হবে, অবকাঠামোগত বিন্যাস ও স্থানভেদে ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতিকরণ ইত্যাদি বিষয় নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়।

সত্যিকার অর্থে নগরের উদ্ভূত সমস্যা থেকেই নগর পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়, এ দিক থেকে আমরা নগর পরিকল্পনাকে নগর সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা বলতে পারি।

একটি নগরকে জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হলে সঠিক নগর পরিকল্পনার বিশেষ প্রয়োজন। ভুল বা অপরিকল্পিত নগর পরিকল্পনার কারণে ঘটতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয় এবং নানা ধরনের নাগরিক সমস্যা।

যেমনঃ  

  • অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট এবং যানবাহনের ফলে রাস্তায় অস্বাভাবিক যানজট ফলে মানুষের চলাচলে সমস্যা।
  • প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠ বন্টনের অভাব ফলে উন্নয়নের ভারসাম্য হচ্ছে না।
  • অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে আবাসিক এলাকা এবং কমার্শিয়াল এলাকা একীভূত হয়ে যাচ্ছে।
  • খেলার মাঠ, পার্কসহ বিনোদনমূলক স্থানের অভাবের ফলে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।      

 নগর উন্নয়ন বা নগরায়নের সকল বিষয় শুধুমাত্র নগরবীদদের উপর নির্ভর করে না। সঠিক নগরায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের সঠিক ভূমিকা পালন করা উচিৎ। আর এর জন্য নগর পরিকল্পনার জ্ঞান থাকাটা জরুরী। নগরায়ন সমন্ধে জানতে আপনাকে সাহায্য করবে ভালো কিছু বই। নগর পরিকল্পনা সমন্ধে জানতে নিম্নের বইগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

১। The Death and Life of Great American Cities:

বইটির লেখক jane Jacob। তিনি বইটি প্রথম প্রকাশ করেন ১৯৬১  সনে। সেই সময়ের জনসাধারনের জীবনকে কিভাবে আরো বেশি সুন্দর এবং সমৃদ্ধ করা যায় সেই বিষয়ে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়।  নগরের প্রাকৃতিক সম্পদকে কিভাবে সুষ্ঠভাবে বন্টনের মাধ্যমে নগরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায় সে নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন।  

২। Boom Town:

বইটির লেখক Sam Anderson, আগষ্ট  ২১, ২০১৮ সনে তিনি বইটি প্রকাশ করেন। একটি অনুন্নত, ধ্বংসযশযজ্ঞ শহরকে কিভাবে পুনর্গঠন করা যায় এবং এর জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ এ নিয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া আছে। সেম এন্ডারসন অপর আরেকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন সেইটা হলো, যে কোন শহরকে বিনির্মান করতে হলে সেই দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষ্যা করে উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে।  

৩।  Walkable City:

বইটি লিখেছেন Jeff Speck, তিনি তার প্রায় সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার ব্যয় করেছেন কিভাবে একটি শহরকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলা যায়। এই বইয়ে তিনি একটি কি ফ্যাক্টর দেখিয়েছেন “walkability”। একটি শহরের রাস্তাঘাট গুলোকে কিভাবে শহরের মানুষের চলাচলের জন্য সহজ এবং গতিশীল করা যায়। কিভাবে সহজ সিধান্তগুলো বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তার করে থাকে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

৪।Building and Dwelling:

বইটি লিখেছেন Richard Sennett, তার বইটি প্রকাশ পায় April 10, 2018 তারিখে। তিনি একটি নৈতিক শহরের কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে থাকবে  উদার বৈচিত্র্য, বিবর্তন, উপযুক্ত প্রযুক্তি, এবং নতুনত্ব।

৫। The Design of Childhood:  বইটি লিখেছেন Alexandra Lange, ৪১৬ পেজের এই বইটি প্রকাশ পায় June 12, 2018 তারিখে। বইয়ের সব থেকে ব্যতিক্রমি বিষয় হলো তিনি বোঝাতে চেয়েছেন কিভাবে একটি শহরকে শিশুদের বাসযোগ্য করে গড়ে তুলা যায়। তার মতে বর্তমান সময়ে শিশুদের চিন্তা ভাবনা মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই তাদেরকে সৃজনশীল হওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নগরপরিকল্পনা, যা সঠিক ভাবে বন্টন করবে নগরায়নের সকল উপাদানকে।

৬। The Divided City:  বইটি লিখেছেন Alan Mallach, ৩৪৪ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ পায় June 2018, একটি শহরের উন্নয়নের জন্য এর প্রতিটা অঞ্চলের উন্নয়ন প্রয়োজন। একটি এলাকা অনেক বেশি নাগরিক অন্যটি ততটা উপযোগী না, তাহলে সেই শহরের উন্নয়নের ভারসাম্য থাকবেনা।

৭। The Big Ones:  বইটি লিখেছেন  Lucy Jones, তার ২৫৬ পৃষ্ঠার এই বই প্রকাশ পায় April 17, 2018 তারিখে। যুক্তরাষ্টের ভূতাত্ত্বিক গবেষণার সাথে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্পের সাথে কিভাবে সহনশীল পর্যায়ের বিল্ডিং তৈরি করা যায় এবং কিভাবে ভূমিকম্প পরবর্তি অবস্থা মোকাবেলা করা যায়, এ নিয়ে তার দীর্ঘ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেছেন।

৮।Parking and the City: বইটি লিখেছেন Donald Shoup, 534 পৃষ্ঠার এই বইটি প্রকাশ পায় April 13, 2018 তারিখে। Shoup এর লেখা এই বইটি ইতোমধ্যে প্রভাবশালী বইয়ের মধ্যে একটি। বইয়ের নাম দেখেই অনেকটা বুঝা যায় বইয়ের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে। সুষ্ঠ নগর পরিকল্পনার মধ্যে পার্কিং ব্যবস্থাপনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

৯। Human Transit:  নগর উন্নয়নের জন্য পাবলিক পরিবহন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। পাবলিক পরিবহন নগরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেমন ভুমিকা রাখে তেমন এর সমস্যার কারণে নগরে নানা ধরনের সমস্যা সমস্যা হয়ে থাকে। একটি নগরের জন্য পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থা কেমন হওয়া প্রয়োজন এবং এই সেক্টরে বিদ্যামান সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা যায় তার একটি বাস্তবমুখী ধারণা দেওয়া আছে।

১০। Sustainable Nation:  টেকসই উন্নয়ন বর্তমানে খুব আলোচিত বিষয়। কোন দেশ বা কোন শহরের  টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি প্রোপার নগর পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি নগরের উন্নয়নের কথা যদি কোন নগরবীদকে বা অন্য যে কোন কাউকে বলা হয় তাহলে তারা হয়তো বিভিন্ন গ্রাফ, চিত্র, মানচিত্র, ফটোগ্রাফ ইতাদির মাধ্যমে ব্যখ্যা করবেন কিন্তু কোথা হতে শুরু করবেন এইটা নিয়ে দ্বিধা থেকে যায়। এই সকল বিষয়ে বইটিতে একটা ক্লিয়ার ধারণা পাওয়া যাবে।