গাড়ি কেনার পর যে বিষয়টা সবাইকে ভাবিয়ে তুলে সেটা এর জ্বালানি খরচ। অনেক সময় গাড়ির জ্বালানি খরচ এতটাই বেড়ে যায়, যা অনেকের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়ায়। অনেকেই জ্বালানি খরচ কমাতে গাড়িকে সিএনজি করে ফেলে। কিন্তু জ্বালানি যাই হোক না কেন, সকল জ্বালানি খরচের মূল্য বাড়ছে প্রতিনিয়ত। আর এই জ্বালানি খরচ যদি গাড়ির কিছু ভুল ব্যবহারের কারণে বাড়ে তাহলে সেইটা কমাবেন কি দিয়ে? তাই এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা মেনে চললে আপনার জ্বালানি খরচ কমে যাবে। নিম্নে তেমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো, যা আপনার গাড়ির জ্বালনি খরচ কমাতে সহায়তা করবে। 

১। অতিরিক্ত গতি বর্জন করুনঃ 

অনেকেই গতি নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। গাড়িতে উঠেই এক্সিলেটরে দে চাপ, আর আমরে ঠেকায় কে! হ্যাঁ, এমনটা অনেকেই করে থাকেন,কিন্তু ইঞ্জিনে যদি বেশি চাপ পরে তাহলে যে ফুয়েল খরচ বেড়ে যাবে, সে খেয়াল কি আছে? আপনাকে ফুয়েল খরচ কমাতে হলে গাড়ির গতিকে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখতে হবে। আর এটা যে শুধু জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করবে তা নয়, আপনার অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমাবে।

২। গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কি এবং ইঞ্জিনের অবস্থা চেক করুনঃ 

প্রথমত, আপনার গাড়ির ফুয়েল খরচ অনেক গুনে বাড়িয়ে দিবে যদি ইঞ্জিনের অবস্থা ভালো না থাকে। সামান্য প্রেশারে যখন গাড়ি থেকে কালো ধোয়া বের হয়, তখন বুঝতে হবে আপনার গাড়ির তেল যথাযথ ভাবে না পুরে সেইটা কালো ধোয়া আকারে বের হচ্ছে, যার অর্থ ইঞ্জিন বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এমনটা হতে পারে অতিরিক্ত প্রেসার কিংবা যন্ত্রাংশের মেয়াদ পার হওয়ার কারণে, যা আপনার জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দিবে। দ্বিতীয়ত, গাড়ির তেলের ট্রাঙ্কি লিকেজের কারণে অনেক সময় ট্রাঙ্কি দিয়ে তেল নির্গত হয়, যার করণে বেড়ে যেতে পারে আপনার জ্বালানি খরচ।

৩। টায়ার প্রেশার ঠিক রাখুনঃ

আপনি জানেন কি আপনার টায়ার যে আপনার গাড়ির তেল খায়! আপনি যদি মনে করে একা ইঞ্জিনই তেল খায় তাহলে ভুল। আপনার গাড়ির টায়ারেরও তেল খাওয়ার ক্ষমতা আছে। আর এই ক্ষমতা গাড়ির টায়ার তখনি পায় যখন আপনার গাড়ির টায়ারের প্রেশার ঠিক থাকে না। ইনফ্ল্যাটেড টায়ার গাড়ির জ্বালানি খরচ বাড়ার একটি কারণ। ইনফ্ল্যাটেড টায়ার বা গাড়ির টায়ার প্রেশার কম থাকলে সেটি রাস্তায় স্মুথলি চলতে পারেনা, ফলে ইঞ্জিনের উপর চাপ পড়ে। আর ইঞ্জিনের উপর চাপ পড়লেই সে গাড়ির জ্বালানি বেশি খরচ করে ফেলে। ফলে ইনফ্ল্যাটেড টায়ারের কারণে খরচ হচ্ছে অতিরিক্ত জ্বালানি। গাড়ির টায়ারের প্রেশার সবসময় ঠিক রাখুন। মাস শেষে দেখবেন, কম ফুয়েলেই গাড়ি চলেছে আগের চাইতে বেশি পথ। অর্থাৎ মাইলেজ পাবেন বেশি।

৪। এয়ার ফিল্টার চেক করুনঃ

আপনার গাড়ির এয়ার ফিল্টার যদি পরিচ্ছন্ন না থাকে তাহলে আপনার গাড়ির জ্বালানি খরচ বাড়বে। কারণ অপরিচ্ছন্ন এয়ার ফিল্টারের কারণে ইঞ্জিনে বাতাস চলাচলে বাধা পায়। ফলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে যায়। আর এই কারণে ইঞ্জিন বেশি তেল বা জ্বালানি খরচ করে ফেলে। এয়ার ফিল্টার পরীক্ষা করা খুবই সহজ কাজ। গাড়ির ইউজার মেনুয়াল দেখে ফিল্টার খুলে সূর্যের নিচে ধরুন। তারপর এর মধ্যে দিয়ে সূর্যের দিকে তাকান। যদি ফিল্টারের মধ্যে দিয়ে সূর্যরশ্মি আপনার চোখে এসে পড়ে তাহলে বুঝবেন ফিল্টার পরিষ্কার আছে, আর যদি সূর্যরশ্মি আসতে বাধা পায় বা না আসে তাহলে বুঝবেন তা পরিষ্কার করতে হবে। এয়ার ফিল্টার পরিস্কার রাখুন, জ্বালানি খরচ ও ফুয়েলের অপচয় থামান।

৫। সময় নিয়ে গিয়ার পরিবর্তন করুনঃ 

ঢাকা শহরের রাস্তায় টানা গাড়ি চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব বিষয়, রাস্তার যানজটের কারণে আপনাকে থেমে থেমে গাড়ি চালাতে হয়। ঐ সময়ে আপনাকে গাড়ির গিয়ার পরিবর্তন করতে হয়, ঝামেলাটা তখনি হয় যখন আপনি হঠাৎ করেই গাড়ির গিয়ার পরিবর্তন করে ফেলেন। ধরুন, আপনি প্রথম গিয়ারে গাড়ি চালাচ্ছেন কোন সময় না নিয়েই আপনি গিয়ারটি পরিবর্তন করে তৃতীয় কিংবা চতুর্থ গিয়ারে ফেলে দিলেন, তার মানে হঠাৎ করেই আপনার গাড়ির ইঞ্জিনে এক্সট্রা একটা প্রেসার পরল, যার কারণে আপনার ফুয়েল খরচ যে বেড়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নাই।

৬। নির্ভেজাল জ্বালানি ব্যবহার করুনঃ

মানসম্মত ভালো ফুয়েল ব্যবহারের উপর আপনার জ্বালানি খরচ অনেকটা নির্ভর করে। বাজারে বিভিন্ন দামের জ্বালানি পাওয়া যায়, আপনি যদি কম দামের জ্বালানি বেছে নেন তাহলে এটা যেমন আপনার গাড়ির জন্য ক্ষতিকর তেমন আপনার জ্বালানি খরচ বাড়াবে। চেষ্টা করুন তেল পাম্প থেকে ভালো মানের জ্বালানি সংগ্রহ করার জন্য, এতে আপনার গাড়ির ইঞ্জিন ভালো থাকবে এবং খরচও কমবে।

৭। নিয়মিত সার্ভিসিং করুনঃ

নিয়মিত সার্ভিসিং এর উপর আপনার গাড়ির স্থায়িত্ব এবং জ্বালানী খরচ অনেকাংশেই নির্ভর করে। একটি গাড়ি ১২০০০ কিঃ মিঃ বা ৬মাস পরপর যথাযথ ভাবে সার্ভিসিং করালে ভালো মাইলেজ পাওয়া যায় , পাশাপাশি জ্বালানী খরচ কমে আসে। কারণ কোন যন্ত্রাংশ যদি স্বাভাবিক অবস্থায় না থাকে তাহলে তাহলে আপনার গাড়ির পারফরমেন্স খারাপ হয়ে যাবে। তাই ভালো মাইলেজ এবং ফুয়েল খরচ কমাতে চাইলে আপনার বিশ্বস্ত কোন সার্ভিসিং সেন্টারে গিয়ে নিয়মিত সার্ভিসিং করুন।

৮। গাড়িতে কম ওজন বহন করুনঃ

গাড়িতে অধিক ওজন বহন করলে গাড়ির ইঞ্জিনে এক্সট্রা প্রেসার পরে, যার ফলে ইঞ্জিনের অতিরিক্ত জ্বালানির প্রয়োজন হয়, যার ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় জ্বালানি খরচ বাড়ে। তাই চেষ্টা করুন এক্সট্রা ওজন বহন না করার জন্য। গাড়িতে এক্সট্রা ব্যাটারি, এক্সট্রা ভারী কোন যন্ত্রাংশ থাকলে তা খুলে ফেলুন। 

৯। গাড়িতে এসির ব্যবহার কমিয়ে আনুনঃ 

অতিরিক্ত এসি ব্যবহার আপনার গাড়ির জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দিবে। আপনি যখন কোন লংড্রাইভে বের হন, তখন চেষ্টা করুন গাড়ির জানালা খুলে দিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে। এতে করে আপনার গাড়ির জ্বালানি যেমন কমবে তেমন আপনি প্রকৃতির স্বাদ নিতে পারবেন। 

 

১০। স্মার্ট কার পার্কিং ও ভেইকেল ট্র্যাকার ব্যবহার করুনঃ

গাড়ির তেল চুরি হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। এমন যদি  হয় আপনি উপরের সবগুলো কাজ করছেন, কিন্তু আপনার গাড়ি নিরাপত্তার জন্য কিছু করছে না। তাহলে কিন্তু সব চেষ্টা বৃথা হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আপনার গাড়ির নিরাপত্তা দিবে স্মার্ট কার পার্কিং সিস্টেম এবং ভেইকেল ট্র্যাকিং সার্ভিস। আপনি যখন আপনার গাড়ি স্মার্ট পার্কিং স্লটে পার্ক করবেন তখন আপনার গাড়ি থেকে কোন কিছু চুরির ভয় থাকবেনা। গাড়ি পার্ক করে আপনাকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।