খুব স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ভাবতে অভ্যস্থ যে যানজট সমস্যা শুধুমাত্র প্রশস্ত রাস্তার অভাব এবং শহুরে ঘনবসতির কারণেই হয়ে থাকে। কারণ হিসেবে আমরা ধরে নেই, প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ নতুন গাড়ি রাস্তায় আসে তার তুলনায় রাস্তা অনেক বেশি অপ্রসস্থ এবং এই সমস্যাই প্রতিনিয়ত যানজট সমস্যাকে তীব্র থেকে তীব্রতর করছে। 

কিন্তু বাস্তবতা এই যে শুধুমাত্র রাস্তার অপ্রসস্থাতাই যানজটের কারণ নয়। বর্তমান সময়ে অফিস, মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতল, শপিং মলের সামনে প্রচুর পরিমাণে যানজট দেখা যায়। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই প্রতিটা জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা। যার দরুন তাঁরা রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করছে এবং রাস্তার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ তাঁরা যান চলাচলের অনুপযোগী করে রাখছে। যার ফলে চেনা চিত্র, যানজট।

আর একটি প্রমানযোগ্য সমস্যা হলো কিছু শপিংমল, মার্কেট, অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদিও পার্কিং আছে কিন্তু তা একেবারেই পুরোনো ধাঁচের। এই সকল পার্কিং স্পেস গুলতে ম্যানুয়ালি পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করা হয়, এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই সকল পার্কিং ম্যানেজমেন্ট খুব নিম্নমানের। যার ফলে অনেক লোক যথাযথ স্থানে পার্কিং করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। 

তবে আশার বিষয় এই যে বর্তমান সময়ের অনেক পার্কিং এর মালিক গণ এবং মার্কেট, শপিংমলের লোকজন অনেকটা স্মার্ট কার পার্কিং এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। এবং স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থার সুবিধা এবং সহজ ম্যনেজমেন্টে উচ্ছ্বাসিত তাঁরা। 

কমার্শিয়াল বিল্ডিং  স্মার্ট পার্কিং এর মাধ্যমে কি কি সুবিধা পাবেঃ 

১) সহজ এবং কার্যকর উপায়ে পার্কিং ব্যবস্থাঃ 

বড় কোন শপিং মল বা অফিসের জন্য পার্কিং স্পেস একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সাধারণত এই সকল পার্কিং স্পেসগুলো অনেক বড় হয়, যেখানে পার্কিং এর ফাঁকা স্পেস খুঁজে পাওয়া অনেক কষ্ট সাধ্য এবং যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ। এবং অনেক সময় না চাইলেও আনঅথরাইজড গাড়ি বা গেষ্ট গাড়ি পার্কিং এর অনেক জায়গা পূর্ণ করে রাখে।  এই ধরনের অনেক সমস্যাই আমরা বর্তমান পার্কিং স্পেসগুলোতে দেখেতে পাই। যা অনেক সময় সঠিক স্থানে পার্কিং করার প্রতি অনীহা তৈরি করে। এই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব স্মার্ট কার পার্কিং এর মাধ্যমে। 

২) পার্কিং স্পেসের সঠিক ব্যবহারঃ

সঠিক তথ্যের অভাবে পার্কিং স্পেসের যথাযথ ব্যবহার অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কোন পার্কিং স্পেসে যদি ২০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকে, এই প্রতিটা স্পেসের হিসেব ম্যনুয়ালি রাখা অনেক কঠিন একটি কাজ। কিন্তু স্মার্ট পার্কিং স্পেসে কাজটা অনেক সহজ। সেন্সর এর সাহায্যে কখন কোন স্পেস ফাঁকা আছে বা পার্ক করা আছে তা যদি একটি ডিস্প্লের মাধ্যমে পার্কিং গেটে দেখানো যায় তাহলে পার্কিং স্পেসের যথাযথ ব্যবহার করা সম্ভব।                                                                                             

৩) সহজ পেমেন্ট সুবিধাঃ  

পেমেন্টের মাধ্যমে যদি পার্কিং এর ব্যবস্থা করা হয় তাহলে পেমেন্ট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ম্যানুয়ালি প্রতিটা গাড়ি কত ঘন্টা পার্কিং স্পেসে অবস্থান করছিল তা হিসেব করে ক্যাশ কালেক্ট করা কঠিন কাজ। যদি একটি পার্কিং স্পেসে ২০০ গাড়ি রাখার স্থান থাকে তাহলে প্রতিদিন কত গাড়ি গাড়ির আসা যাওয়া হবে! এই প্রতিটা গাড়ি ক্যাশ কালেক্ট যদি ম্যনুয়ালি করা হয় তাহলে কত জন গার্ড লাগবে? বর্তমান সময়ে  সাথে এটা একটা বেমানান কাজ। এই সকল কঠিন কাজটাকেই অনেক সহজ করে দিবে পার্কিং টিকিটিং সিস্টেম। 

৪) পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাঃ 

পার্কিং এ গাড়ি রেখে তার নিরাপত্তা সব সময় একটা ভাবনার বিষয়। গাড়ি চুরি এবং গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি সবসময় একটা চিন্তার বিষয়, এমনকি গাড়ি যখন পার্কিংএ পার্ক করা থাকে। এই ধরনের দুশ্চিন্তা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থা। কারণ স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থায় রয়েছে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা। স্মার্ট সিকিউরিটি সিস্টেম ব্যবহার করে আপনি চাইলেই আনঅথরাইজড  গাড়ির প্রবেশ বন্ধ করতে পারবেন। এছাড়াও আধুনিক সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে গাড়ির মালিক এবং ম্যনেজমেন্টের লোকজন থাকতে পারবে চিন্তা মুক্ত। 

৫) ম্যানেজমেন্ট খরচ কমাবেঃ 

একটি পার্কিং ম্যানুয়ালি ম্যানেজমেন্ট করতে অনেক বেশি খরচ করতে হয় স্মার্ট পার্কিং সিস্টেমের তুলনায়। গাড়ির নিরাপত্তা প্রদানের জন্য কিছু লোক, পার্কিং টিকিট ম্যনেজমেন্ট করার জন্য কিছু লোক, গাড়ির প্রবেশ এবং প্রস্থান মুখে প্রয়োজন হয় বেশ কিছু লোকের। এতে করে পার্কিং ম্যানেজমেন্ট খরচ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু স্মার্ট পার্কিং সিস্টেমে কোন লোক ছাড়াই অধিক নিরাপত্তার সাথে পার্কিং ম্যনেজমেন্ট করা সম্ভব। 

৬) বায়ু দূষণ কমাবেঃ 

ম্যানুয়াল পার্কিং ব্যবস্থায় সাধারণত পার্কিং গেটে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এ থেকে আশে পাশের পরিবেশ ব্যাপক ভাবে দূষিত হয়। এছাড়া রাস্তায় পার্কিং করা এবং যথাযথ পার্কিং না থাকার কারণে যানজটতো বাড়ছেই সেই সাথে বাড়ছে বায়ু দূষণ। এই সকল সমস্যার সহজ সমাধান স্মার্ট পার্কিং সল্যুশন।

দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, অনেক সূচকেই এগিয়ে যাচ্ছি আমরা কিন্তু মাঝে কোথাও একটা কমতি রয়ে যাচ্ছে। অনেক কিছুর সাথেই তাল মিলেয়ে চলার চেষ্টা করেও আমাদের অগোচরেই বাদ পড়ে যাচ্ছে গুরত্বপূর্ণ বিষয়। যার জন্য কিছু নেগেটিভ খবর পত্রিকার পাতায় হেডলাইন করে নেয়। যানজট, বায়ুদূষণ এ সকল কিছুতে ঢাকা শহরের অবস্থান খুবই বাজে। যা এখন ঢাকাবাসির মাথা ব্যথার প্রধান কারণ। এই ধরনের সমস্যর অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে স্মার্ট পার্কিং সিস্টেম। দেশের প্রতিটা কমার্শিয়াল বিল্ডিং, অফিস, শপিংমল সহ সকল পার্কিং স্পেস যদি স্মার্ট পার্কিং এর আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে যানজট এবং দূষণ কমিয়ে আরো ভালো কিছু করার পথে এগিয়ে যেতে পারি আমরা।

                                                               স্মার্ট কার পার্কিং সম্পর্কিত যে কোন সেবা গ্রহণ করতে