ভালো থাকুক আপনার গাড়ি

ভালো থাকুক আপনার গাড়ি

পড়তে সময় লাগবে: 3 মিনিট...

সকাল সকাল মেজাজ খারাপ করা হক সাহেবের নিয়মের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু এই সাত সকালে নিজের মেজাজ ধরে রাখতে পারছেন না তিনি। গাড়িতে উঠতেই চোখে পড়ল ,দুই দিন আগে বাচ্চারা গাড়িতে যেই চকলেট, চিপস খেয়েছিল, সেই খোসা পড়ে আছে। তখন থেকেই মেজাজ বিগড়ানো শুরু। গাড়ির চালককে ডেকে বেশ বকাঝকাও করলেন হক সাহেব। হক সাহেবের মত আমরা অনেকেই একটা ভুল করি। শখের গাড়ি তো আপনার। আপনি কি পারতেন না এর দেখভাল করতে। সব সময় চালকের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেও নিতে পারেন এর যত্ন। তবে এটাও ঠিক এত কর্ম ব্যস্ত রুটিনের ফাঁকে আপনার পক্ষে আবার গাড়ির জন্য সময় বের করা বেশ কঠিন। তবে চালক কে দিয়েও গাড়ির যত্ন করিয়ে নিতে, নিচের বিষয় গুলি সবার জেনে রাখা ভালো।

চলুন জেনে নেয়া যাক নিজের কষ্টের টাকায় কেনা প্রিয় গাড়িটিকে যত্ন নিতে কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

ধুলাবালি শুধু আপনার নয় গাড়িরও ক্ষতি করেঃ

আমাদের যেন ধুলাবালির সাথেই বসবাস। গাড়িতে ধুলাবালু জমবে না, এটা আশা করাটাও যেন বোকামি। ! নিয়মিত ব্রাশ কিংবা ঝাড়ু দিয়ে সিটের ধুলাবালু পরিষ্কার করুন। সিটের এবং নিচের জমে থাকা ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। নতুবা এটা যেমন গাড়ির ক্ষতি করবে , ক্ষতি করবে আপনারও। গাড়িতে কোনো কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে এয়ারফ্রেশনার ব্যবহার করা জরুরী। নিয়মিত গাড়ির উইন্ডশিল্ড পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন। শিখে রাখুন কি করে গাড়ির চাকা বদলাতে হয়। ব্রেক প্যাডেলের জায়গার ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। সপ্তাহে একদিন গাড়ির কার্পেট, ব্রেক প্যাডেলের জায়গার ময়লা এবং গাড়ির বাইরের দিক পরিষ্কার করা উচিৎ।

কাগজপত্র সঙ্গে আছে তোঃ

আপনার লাইসেন্সের কাগজ, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজ, ইন্স্যুরেন্সের কাগজপত্র একটি ফাইল এর মধ্যে সংরক্ষণ করুন। ফাইল টা রাখতে পারেন ড্যাশবোর্ডের ড্রয়ারে।

বৃষ্টির দিনে বাড়তি সতর্কতাঃ

বৃষ্টির মধ্যে দরজা খোলা-বন্ধ করার ক্ষেত্রে মনোযোগ দিন, বৃষ্টির পানি যেন গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। বাচ্চাদের স্কুল জুতা থেকে সিটে কাদা লেগে যেতে পারে। এ সময় প্লাস্টিকের সিটকভারও ব্যবহার করতে পারেন। অনেক নান্দনিক প্লাস্টিকের সিটকভার পাওয়া যায় বাজারে।

প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র সাথে আছে তোঃ

একটি বাক্সে ফার্স্ট এইডের বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখতে পারেন। বিপদে কাজে দিবে। গাড়ির চাকা বদলানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি গাড়িতে রাখুন। জ্যাক ও লাগ রেঞ্জের কার্যকারিতা ভালো মত খেয়াল করুন। সতর্কতা হিসেবে বাড়তি চাকা রাখুন। বাড়তি ব্রেকওয়ারও রাখতে পারেন।

ইঞ্জিনের যত্ন নিনঃ

তেলের উপর ইঞ্জিনের সুস্থতা অনেক অংশে নির্ভর করে। তাই আপনার গাড়ির ইঞ্জিনকে সচল রাখতে প্রতি ৩ মাস অন্তর অথবা ৩০০০ মাইল চালানোর পর গাড়ির তেল বদলাতে হবে। তেলের পাশাপাশি এর ফিল্টার, স্পার্ক প্লাগ এবং স্পার্ক প্লাগ ওয়্যার বদলানোর কাজটাও করতে হবে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর।

ব্রেক সিস্টেমে খেয়াল রাখুনঃ

গাড়ি থামানোর কাজ ব্রেকের আর এই ব্রেক আসে ব্রেক প্যাডে হওয়া ঘর্ষণ থেকে। এটি অত্যন্ত জরুরী একটা বিষয়। কারণ একটু এদিক সেদিক হলেই ঘটে যেতে পারে বিশাল দুর্ঘটনা।

তবে কিছু লক্ষণ দেখে আপনি কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনার হাইড্রোলিক সিস্টেমে বাতাস ঢুকলে গাড়ির প্যাডেল স্পঞ্জের মতো আচরণ করবে। ব্রেক সিস্টেমে ভারসাম্যহীনতা বুঝা যাবে ব্রেকে লাল বাতির ওয়ার্নিং জ্বললে। গাড়ি ব্রেক করলে বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ হলে বুঝে নিবেন আপনার ব্রেক প্যাড বদল করার সময় হয়ে গেছে। বছরে অন্তত একটিবার গাড়ির ব্রেক সিস্টেম এক্সপার্টদের দ্বারা চেক আপ করিয়ে নেওয়াই ভালো।

এয়ার কন্ডিশনারের যত্নে:

গরমকালে গাড়িতে সবচেয়ে জরুরি বস্তুর নাম এয়ার কন্ডিশনার। যখন দেখবেন গাড়িতে বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস কম তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারছেনা, তখন বুজবেন A.C এর ঝামেলা রয়েছে। যেহেতু আধুনিক এসি সিস্টেম জটিল প্রকৃতির, তাই এ ব্যাপারে প্রফেশনালের পরামর্শ নেয়াই উত্তম এবং অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে সার্ভিসিং করানো উচিত।

গাড়ি চালানোয় সতর্কতাঃ

আমাদের আজ যেন স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা খুবই কম। সমসাময়িক ঘটনা গুলি যেন তাই প্রমান করে। গাড়ি চালানোর সময় তাড়াহুড়া করবেন না। মনে রাখবেন আপনার প্রিয়জন আপনার জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছে। চালককে দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় তাঁকে তাড়াহুড়া না করার জন্য পরামর্শ দিবেন। জীবনকে ভালো বাসুন।

বোনাস

গাড়িতে টাইম বোমা নিয়ে ঘুরছেন নাতো???

আপনি যে পরিবহণ নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন, সেটাতে গ্যাস (CNG) রাখার জন্য একটি সিলিন্ডার আছে। ঐ সিলিন্ডারের মেয়াদ মাত্র ৫ বৎসর। ৫ বৎসর পর এটি বিষাক্ত বোমায় পরিনত হয়, যা টাইম বোমা থেকে ভয়ংকর হয়। যখন তখন তা বিস্ফোরণ হতে পারে।মেয়াদ উত্তীর্ণ ঐ সিলিন্ডার কেউ পরীক্ষা করে পরিবহণ নিয়ে চলাফেরা করেন না জানি। নাভানা কোম্পানি, নোভা কোম্পানি, টাটা কোম্পানি এই সিলিন্ডার গুলো তৈরি করেছে। তাদের শর্ত মতে- ৫ বৎসরের গ্যারান্টি দিয়ে একটি গ্যারান্টি কার্ড দিয়ে থাকেন গাড়ির মালিক পক্ষকে। ৫ বৎসর পর তাদের কোন দায়ভার নেই। অথচ ৮৫% মানুষ এটাকে আমলে না নিয়ে গাড়ি চালায়। তাই শুধু নিজের না , রাস্তা ঘাটের সবার স্বার্থে CNG সিলিন্ডার নিয়ে সতর্ক হন।

 36 total views,  1 views today

Share your vote!


Related Posts

To Buy Prohori

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

© 2021